ইভেন্ট

৭ই মার্চের ভাষণ

৭ই মার্চের ভাষণ। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার মূল ভিত্তি হলো ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের সেই জ্বালাময়ী ভাষন। বাঙালির মুক্তির সনদ এই ভাষন আমাদের রক্তে গাথা। ৭ই মার্চের সেই বিখ্যাত ভাষণ আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে বাঙালির ঐতিহ্য বহন করতেছে। তাই যারা এই ৭ ই মার্চের ভাষণ দেখতে চান তারা আমাদের পোস্টে ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। ঐতিহাসিক সেই ভাষণ সহ আরো বিভিন্ন বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে আমাদের পোস্টে।

৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেয় কবে

৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেয় কবে। ফ্রান্সের প্যারিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি “মো শহিদুল ইসলাম” ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি “মহিদুল হক” বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৭মার্চ আসামের স্বীকৃতির জন্য “১২পৃষ্ঠার” একটি আবেদন পত্র প্রেরণ করেন। স্বীকৃতি স্বপক্ষে ১০টি প্রয়োজনীয় তথ্য নথি, ও প্রমাণ পত্র জমা দেয়া হয়।

২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষনকে স্বীকৃতি দেয় এবং Memory of the world register এর অন্তর্ভুক্ত করেন। প্যারিসে ইউনেস্কোর কার্যালয় অন্তর্ভুক্তি এর ঘোষণা দেন- “মহাপরিচালক ইরিনা বেকোভা”।  ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক পরামর্শ কমিটি ১৩০ টি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপুর্ণ দলিল, নথি ও বক্তৃতার মধ্য ৭৮ টি বিষয়কে নির্বাচিত করে। এর মধ্য ৭ই মার্চের ভাষনের অবস্থান ৪৮তম।
পড়ুনঃ ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা

৭ই মার্চের সম্পূর্ণ ভাষণ

৭ই মার্চের সম্পূর্ণ ভাষণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণঃ
ভাইয়েরা আমার; আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম, নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলী বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করবো এবং এই দেশকে আমরা গড়ে তুলবো, এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তেইশ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। তেইশ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নরনারীর আর্তনাদের ইতিহাস; বাঙলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে দশ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯-এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পর যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন। আমরা মেনে নিলাম।তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলীতে বসবো। আমি বললাম, এসেম্বলীর মধ্যে আলোচনা করবো; এমনকি আমি এ পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও, একজনও যদি সে হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব।জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন যে, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরও আলোচনা হবে। তারপর অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করলাম, আপনারা আসুন বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করি। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসেন, তাহলে কসাইখানা হবে এসেম্বলী। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হবে। যদি কেউ এসেম্বলীতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচী পর্যন্ত দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেম্বলী চলবে। তারপর হঠাৎ ১ তারিখে এসেম্বলী বন্ধ করে দেওয়া হলো।ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসাবে এসেম্বলী ডেকেছিলেন। আমি বললাম যে, আমি যাবো। ভুট্টো সাহেব বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপরে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো। দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে। বন্দুকের মুখে মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সব কিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো।কি পেলাম আমরা? যে আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী আর্ত মানুষের বিরুদ্ধে, তার বুকের উপর হচ্ছে গুলী। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু। আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি, তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। টেলিফোনে আমার সঙ্গে তার কথা হয়। তাকে আমি বলেছিলাম, জনাব ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের উপরে, আমার বাংলার মানুষের উপরে গুলী করা হয়েছে, কি করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে। আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০ই তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকব।আমি বলেছি, কিসের বৈঠক বসবে, কার সঙ্গে বসবো? যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে বসবো? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার উপরে দিয়েছেন, বাংলার মানুষের উপর দিয়েছেন।ভাইয়েরা আমার,২৫ তারিখে এসেম্বলী কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি যে, ওই শহীদের রক্তের উপর পা দিয়ে কিছুতেই মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। এসেম্বলী কল করেছে। আমার দাবি মানতে হবে: প্রথম, সামরিক আইন মার্শাল ল’ উইথ্ড্র করতে হবে, সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে, যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে, আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো, আমরা এসেম্বলীতে বসতে পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে এসেম্বলীতে বসতে আমরা পারি না।আমি, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাচারি, আদালত-ফৌজদারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরীবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সে জন্য সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে সেগুলির হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, গরুর গাড়ি চলবে, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে; শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমিগভর্ণমেণ্ট দপ্তরগুলো, ওয়াপদা কোন কিছু চলবে না।২৮ তারিখে কর্মচারীরা বেতন নিয়ে আসবেন। এর পরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল,- প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলী চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা পয়সা পৌঁছিয়ে দেবেন। আর এই সাতদিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছায়ে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো, কেউ দেবে না। মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটপাট করবে। এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান বাঙালি অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে। আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন রেডিও টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনেন, তাহলে কোন বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে যাতে মানুষ তাদের মায়নাপত্র নিবার পারে। কিন্তু পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ববাংলায় চলবে এবং বিদেশের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে চালাবেন। কিন্তু যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে শুনে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্ত্তত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। জয় বাংলা।
দেখুনঃ ৭ই মার্চের ভাষণের পটভূমি

৭ই মার্চের ভাষণ ইতিহাস এবং বিশ্লেষণ

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন। যাকে বলা হয় বাংলার ম্যাগনাকার্টা বা বাংলার মুক্তির সনদ।
তারিখঃ ৭ই মার্চ ১৯৭১ সাল( রবিবার)
বাংলায়ঃ ২২শে ফাল্গুন, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ
শুরুঃ বিকেল ৩ টা ২০ মিনিট
স্থানঃ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দি উদ্যান, ঢাকা)
ঐতিহাসিক স্থানটি স্বাধীনতা চত্বর নামেও পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন ভিডিও রেকর্ড করেন “আবুল খায়ের”- ব্যাবস্থাপনা পরিচালক পাকিস্থান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম কর্পোরেশন। তিনি এ ভাষনটি রেকর্ড করার জন্য ২০১৪ সালে মরোণত্তোর স্বাধীনতা দিবস পদক লাভ করেন।৭ই মার্চের ভাষনের সাউন্ড রেকর্ডকারী “এ এইচ খন্দকার”। মাইকের নাম ছিলো, “ কল রেডি”।

ভাষণের স্থায়ীত্বঃ ভাষন দেন ২৩ মিনিট। কিন্তু রেকর্ড করা হয় ১৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রায়।
মোট শব্দঃ ১১০৮ টি
সর্বমোট বিধি ছিলোঃ ৩৫ টি।
ভাষণটি অনুমোদিত হয়েছে ১২ টি ভাষায়। তবে ৪৩ টি ভাষায় অন্যবাদের উদ্যগ নেয়া হয়েছে।
ভাষণটির ১৫ তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫ম তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে।
৭ই মার্চের ভাষণে উপস্থিত ছিলো প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ।

ভাষণে উপস্থাপন করা হয় ৪ দফা দাবি।
সেগুলো হচ্ছেঃ
১. সামরিক আইন( মার্শাল লো) প্রত্যাহার করতে হবে।
২. সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৩. ১৯৬৯ সালের সহ এই গণহত্যার তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর ক্ষমতা হস্থান্তর করতে হবে।

এ ভাষনে ৩ জন পাকিস্থানী ব্যাক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।তারা হলেনঃ
১. ইয়াহিয়া খান
২. ভুট্রো খান
৩. আইয়ুব খান( মার্শাল লো জারি কারী)

মূল বক্তব্যঃ স্বাধীনতা তথা মুক্তির সংগ্রামের ঘোষনা।
“এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম”

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

এ ভাষনের প্রথম উক্তিটি ছিলোঃ “ভাইয়েরা আমার”। এবং শেষ উক্তিটি ছিলো, “জয় বাংলা”।
৭ই মার্চের উল্লেখযোগ্য অংশ্য হচ্ছেঃ “রক্ত যখন দিয়েছি। রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
আরো পড়ুনঃ ৭ই মার্চের ভাষণের বৈশিষ্ট্য

ভাষণের প্রেক্ষাপটঃ
১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানের সামরিক শাসক গোষ্ঠী এই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বিলম্ব করতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়। এই সংবাদ এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়। তিনি ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বত্র অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই পটভূমিতে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়। পুরো ময়দান পরিণত হয় এক বিপুল জনসমুদ্রে । এই জনতা এবং সার্বিক ভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।
দেখুনঃ ৭ই মার্চের ভাষণের মূল বিষয়বস্তু

শেষ কথাঃ
প্রিয় ভিজিটরঃ আমরা চেস্টা করেছি আপনাদের সামনে সঠিক তথ্যটি উপস্থাপন করার জন্য। আশা করি আপনাদের কাঙ্খিত সব তথ্য আমাদের পোস্টে পেয়ে গেছেন। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

আরো পড়তে চোখ রাখুনঃ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষণ
মহান শহীদ দিবস কবে? ভাষা শহীদ দিবস পালনের ইতিহাস
২১ শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম
শিক্ষামূলক ফেসবুক স্ট্যাটাস

Show More

sumon

আমার নাম সুমন। আমি একজন ক্ষুদ্র কনটেন্ট রাইটার। আমার ব্লগিং করতে অনেক ভালো লাগে। আমি সবসময় চেষ্টা করি নতুন বিষয় সমূহ নিয়ে লিখতে। এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে সবাইকে সাহায্য করে থাকি। আশা করি আমার লেখাগুলো আপনাদের অনেক ভালো লাগে।
Back to top button