টিপস

মহান শহীদ দিবস কবে? ভাষা শহীদ দিবস পালনের ইতিহাস

মহান শহীদ দিবস। বাঙালির ঐতিহ্যের অন্যতম নাম হলো ভাষা শহীদ দিবস। আজকে আমরা মহান এই দিবসটির সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য উপস্থাপন করবো যা নতুন প্রজন্মের জানা অত্যন্ত জরুরী। কারন অনলাইনের এই ডিজিটাল জুগে মানুষ এতটাই ব্যাস্ত যে আমাদের ঐতিহ্য আজ হারতে বসেছি।

কষ্টার্জিত এই স্বাধীন দেশের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানা থাকার কোন বিকল্প নেই। তাই মহান শহীদ দের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমাদের উচিত এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞ্যান লাভ করা।

শহীদ দিবস কবে !

শহীদ দিবস কবে! ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারতীয় উপমহাদেশ ভাগ হয়ে পাকিস্থান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন উদ্ভব হয়।
পাকিস্থানে ছিলো দুটি অংশ,
১. পুর্ব বাংলা ও
২. পশ্চিম পাকিস্থান।

পাকিস্থানের এই দুটি অংশের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগলিক ও ভাষাগত দিক থেকে অনেকগুলো মৌলিক পার্থক্য বিরাজমান ছিলো। কিন্তু ১৯৪৮ সালে পাকিস্থান সরকার ঘোষনা করে যে উর্ধূ-ই হবে পাকিস্থানের একমাত্র রাস্ট্রভাষা। এই ঘোষনার প্রেক্ষাপটে পূর্ব বাংলায় অবস্থানকারী বাংলাভাষী সাধারণ জনগনের মধ্যে গভীর ক্ষোভের জন্ম হয় এবং বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তারা এই অন্যায্য সিদ্ধান্ত কে মানে নিতে পারে নি। ফলস্বরুপ বাংলা ভাষার সমান মর্যাদার দাবীতে পূর্ব বাংলায় আন্দলন দ্রুত দানা বেধে উঠে। শুর হয় মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য বাঙালীর আন্দলন। যা ইতিহাসে ভাষা অন্দলন হিসেবে পরিচিত।

আরো দেখুনঃ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

ভাষা শহীদ দিবস

ভাষা শহীদ দিবস । ৪৮ সালে শুরু হওয়া ভাষা আন্দলন ৫২ সালে এসে চরম রূপ নেয়। আন্দলন দমনে পুলিষ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহড়ে মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। এই পরেই আসে সেই ২১শে ফেব্রুয়ারী। ঐ দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাঝপথে বেড়িয়ে আসে। তাদের মিছিল ঢাকা মেডিকেলের সামনে আসার পর পাকিস্থানী পুলিশ ছাত্রদের উপর গুলি চালায়। বর্বর এই হামলায় বরকত, আব্দুল জব্বার, আব্দুস সালাম সহ কয়েকজন ছাত্র ও যুবক হতাহত হন।

পাকিস্থান সরকার ভেবেছিলো এই ঘটনার ফলে বাঙালী ভয় পেয়ে যাবে। কিন্তু তা হয় নি! বরং এই ঘটনার পরে ক্ষুব্ধ ঢাকা বাসী পরের দিন ২২শে ফেব্রুয়ারী পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। ২১শে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দলন আরো বেগমান হয়। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত চলে এই আন্দলন। ওই বছর প্রেদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বাঙালী সংখ্যাঘরিষ্ঠ যুক্তফ্রন্ট জয় লাভ করে। তাদের আন্তরিকতায় ৯ই মে অনুষ্ঠীত গণপরিষধের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্থানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। তখন থেকে প্রতি বছর এই দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ৫২ এর ভাষা আন্দলন পূর্ব বাংলারত মানুষের মনে বুনে দিয়েছিলো স্বাধীনতার বীজ। যার ফরস্বরুপ ১৯৭১ সালের মক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।

শহীদ দিবস কত তারিখ !

শহীদ দিবস কত তারিখ! ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। দিনটি আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস হসেবে সুপরিচিত। বাঙালির রক্তে মিশে আছে এই দিনটি। স্বাধীনতার অন্যতম অংশ হিসেবে ধরা হয় এই দিনটি। প্রতি বছর বাঙালি এই দনটিকে গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকেন।

আরো পড়ুনঃ মাতৃভাষা দিবস কবে!

নোটঃ 

আশা করি শহীদ দিবস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব তথ্য পেয়ে গেছেন। ভাষা শহীদ দিবস সম্পর্কে ভালো করে জানতে আমাদের পোস্টটি ভালো করে লক্ষ করুন। এছাড়া আপনাদের কোন মতামত থাকলে আমাদের অবশ্যই অবগত করুন।

Show More

sumon

আমার নাম সুমন। আমি একজন ক্ষুদ্র কনটেন্ট রাইটার। আমার ব্লগিং করতে অনেক ভালো লাগে। আমি সবসময় চেষ্টা করি নতুন বিষয় সমূহ নিয়ে লিখতে। এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে সবাইকে সাহায্য করে থাকি। আশা করি আমার লেখাগুলো আপনাদের অনেক ভালো লাগে।
Back to top button